নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস-এর চিন্তা ও মননে বিবেকানন্দ

নেতাজী  সুভাষ চন্দ্র বোস-এর চিন্তা ও মননে বিবেকানন্দ

        নেতাজীর মতে, মানবজাতির সেবা বলতে বিবেকানন্দ স্বদেশ সেবাও  বুঝেছিলেন। তাঁর জীবনীকার ও প্রধান শিষ্যা ভগিনী নিবেদিতা লিখে গেছেন, “মাতৃভূমিই ছিল তাঁর আরাধ্যা দেবী।” দেশের এমন কোন আন্দোলন ছিল না যা তাঁর মনে সাড়া জাগায়নি। 
স্বামী বিবেকানন্দের কাছে ধর্ম ছিল জাতীয়তাবাদের প্রেরণাস্থল। স্বামীজী কোন রাজনৈতিক মতবাদ প্রচার করেনি। কিন্তু যারাই তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন বা তাঁর লেখা পড়েছেন তাঁদের মধ্যে একটা দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক মানসিকতা গড়ে উঠেছে।
স্বামী বিবেকানন্দের বহুমুখী প্রতিভার ব্যাখা করা বড় কঠিন। আমাদের ছাত্র-সমাজ স্বামীজীর রচনা ও বক্তৃতার দ্বারা যেরূপ প্রভাবিত  হইয়াছিল, সেরূপ কাহারও দ্বারা হয় নাই - তিনি যেন সম্পূর্ণভাবে তাহাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ব্যক্ত করিয়াছিলেন।
স্বামী বিবেকানন্দই বাংলার ইতিহাসকে নতুন পথে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন।  তিনি ঘোষণা করেছিলেন “মানুষ তৈরিই আমার জীবনব্রত”। তাঁর অগ্নিময় বাণী এখনও বাংলার ঘরে ঘরে ধ্বনিত হচ্ছে – “নতুন ভারত বেরুক হাট থেকে, বাজার থেকে, কল-কারখানা থেকে”।
আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা, রাতের পর রাত বলে গেলেও এই মহাপুরুষের বিষয কিছু বলা হবে না। এমনি ছিলেন তিনি মহৎ এমনি ছিল তাঁর চরিত্র - যেমন মহান তেমনি গভীর।
৪৮ তম বর্ষে রবীন দে ও গণেশ মাইতির অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠা এই ছোট প্রতিবেদনটি আশা করি আপনাদের ভাল লাগবে। আর আপনাদের ভালো লাগাটাই আমাদের পরিশ্রমের ক্লান্তি দূর করাতে সক্ষম হবে। শেষে শুধু এটাই বলতে চাই যে-  “যারা কথায় কথায় বলেন 'স্বামীজীকে আমরা মানি'-তাঁরা কি অর্থে মানি বলেন, অনেক সময় তা বুঝতে পারি না। এই মানার অর্থ যদি এই হয় যে, আমরা তাঁহার পটপূজা করি – অবশ্য সেও একরকমের মানা বটে, কিন্তু প্রকৃত মানা হল -  তাঁর আদর্শে জীবন গঠন করা ও তাঁর প্রদর্শিত পথে অবিচলিতভাবে কাজ করা”।


শারদ শুভেচ্ছা সহ -
গণেশ মাইতি 

রবীন দে

(যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ)



Share:

0 comments